দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা লঙ্ঘন, ভুল পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করতে এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া অপরাধের তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় জরিমানা বা অটোফাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, মহাসড়কে এআই ক্যামেরার কার্যক্রম আরও বাড়ানো হলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে।
এআই ক্যামেরার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা। আগের তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি গাড়ির রং বা অন্যান্য দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেও যানবাহন শনাক্ত করা সম্ভব। অন্ধকার ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও নম্বরপ্লেটের ছবি ধারণ ও সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে এসব ক্যামেরার।
হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটির মাধ্যমে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতির যান শনাক্ত, লেন পরিবর্তন, অবৈধ পার্কিং এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো যাবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির আওতায় আনতে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মহাসড়কের ৪৯০টি স্থানে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং এগুলো একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত হবে।
পরবর্তী সময়ে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
এআই ক্যামেরার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় জরিমানা বা অটোফাইন ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা চলতি বছরের জুলাইয়ে জানিয়েছিল হাইওয়ে পুলিশ। ৩০ জুলাই কুমিল্লা রিজিয়ন পরিদর্শনকালে হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ জানান, আগস্ট মাসের মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে অটোফাইন কার্যক্রম চালু করা হবে।
তাঁর মতে, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি তৈরি এবং আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
এ সময় তিনি কুমিল্লার নিমসার বাজার এলাকায় যানজট পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একই দিনে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যানজট নিরসন, ডাকাতি প্রতিরোধ ও সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শুধু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত নয়, মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও এআই ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগের এক প্রতিবেদনে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডাকাতি, হত্যা, চুরি, দস্যুতা, ছিনতাই ও সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু যানবাহন শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিটির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির নম্বর জানা না থাকলেও গাড়ির রং বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সেটিকে খুঁজে বের করার সুযোগ রয়েছে। ফলে মহাসড়কে সংঘটিত অপরাধের তদন্তেও ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অবৈধ পার্কিং এবং লেন না মানার কারণে এ মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও যানজটের সৃষ্টি হয়।
এআই ক্যামেরার মাধ্যমে এসব অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি মহাসড়কে পুলিশের নজরদারি আরও কার্যকর হবে এবং অপরাধ সংঘটনের পর সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্ত করাও সহজ হবে।
হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু থাকলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বাড়বে, কমবে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা এবং সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
এমএস/